#তুমি_থেকে_যাও_আমার_হয়ে।
#লেখকঃরবিউল_হাসান।
#পর্বঃ০৪

এতটুকু বলে রবি থেমে গেল।এরপর একটা দীর্ঘ শ্বাস নিল।যেখানে মিশে ছিল রিহির প্রতি ভালোবাসা আবার তার ছলনার জন্য ঘৃণা।

অহনা রবির থেমে যাওয়া দেখে বলে ওঠল তারপর কি হলো?রাশেদ কি অহনাকে পটাতে পেরেছিল?

রবিঃহ্যাঁ পটিয়েছিল।রিহি রাশেদকে বলেছিল যদি রাশেদ রিহির সাথে রিলেশন যায় বা যেতে চাই তাহলে রাশেদকে অনেক কিছু ছাড়তে হবে।
অহনাঃকি ছাড়তে হবে?

রবিঃরাশেদকে বলেছিল রিহির সাথে থাকতে হলে তার সব কথা শুনতে হবে।ফ্রেন্ডদের সাথো আড্ডা দেওয়া বন্ধ করতে হবে।খেলাধুলা বন্ধ করতে হবে।এমন কি ফ্রেন্ডদের সাথে কোথাও যাওয়াও বন্ধ করতে হবে।এক কথায় ফ্রেন্ডদের সাথে চলা যাবে না।

অহনাঃরাশেদ তাই করছিল?
রবিঃহ্যাঁ রাশেদ তাই করছিল।আমাদের সাথে আড্ডা দেওয়া, কোথাও যাওয়া সব বন্ধ করে দিয়েছিল।

একদিন রিহি বৃষ্টির সময় রাশেদ কে ফোন দিয়ে তার বাসার সামনে ডাকে সে গেলে তাঁকে ছাতা ছাড়া বাইরে দাঁড়াতে বলে।রাশেদ তাই করল।দীর্ঘ এক ঘন্টার থেকে বেশি সে বৃষ্টিতে ভেজে।আর বেলকনি থেকে রিহি এসব দেখে দেখে মজা নেয়।পরের দিন রাশেদের অনেক জ্বর ওঠে গেল।রাতে একটুও ঘুমাতে পারে নি।সকালে রিহির ফোনে ঘুম ভাঙলে ফোনটা ধরে সে কানে দেয়।তখনও রিহির পরিক্ষা নেওয়া শেষ হয় নি।

পরের দিন রিহি আবারো রাশেদকে ডাকে আর অপমানিত করে তার পেছন ছেড়ে দেওয়া জন্য। কিন্তু রাশেদ অপমান সহ্য করে তাও রিহির সাথে রিলেশন করবেই সে।

রিহি রাশেদকে বলে গোলাপ ফুল এনে দিতে তাও তক্ষুনি।রাশেদ রিহির কাছে ত্রিশ মিনিট সময় চাই কিন্তু রিহি তাও দিতে নারাজ।শেষে বাধ্য হয়ে পাশে থাকা একটা মেয়ের কাছে গেল।মেয়েটার হাতে একটা সাদা গোলাপ ফুল ছিল রাশেদ মেয়েটাকে বলে ফুলটা রাশেদকে দিতে। কিন্তু মেয়েটা দিলতো না বরং রাশেদকে অকথ্য ভাষায় গালি দেয় আবার রাশেদকে চড়ও মারে।রাশেদ চাইলে সে দিন মেয়েটার কথার জবাব দিতে পারত কিন্তু তা করে নি।

পাশে একটা বড় ভাই হেটে যাচ্ছিল তার হাতেও সাদা গোলাপ ফুল ছিল।রাশেদ গিয়ে ভাইটার কাছে একটা গোলাপ চাই।ভাইটা প্রথমে গোলাপ দিতে না চাইলেও তার মুখের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারে গোলাপটি তার খুব দরকার। আরেকটু লক্ষ্য করতে বড় ভাইটা বুঝতে পারে তাঁকে কেউ খুব জোরে চড় মেরেছে।

—কি ব্যাপার রাশেদ তোমার গালে এটা কিসের দাগ?
রাশেদঃএই মুহূর্তে আমার একটা গোলাপের খুব দরকার ভাই। ঐ মেয়েটার হাতে থাকা গোলাপ টি চেয়েছিলাম তাই মেয়েটা চড় দিল।(মেয়েটাকে ইশারায় দেখিয়ে)

তখন রাশেদের কথা শুনে বড় ভাইটি তার হাতে থাকা দুইটা গোলাপ রাশেদের হাতে দিল।তাদের এই সময়ের মধ্যে প্রায় দুই মিনিট হয়ে গেল।রাশেদ সাদা গোলাপ দুইটি নিয়ে রিহির হাতে দেয়।

গোলাপ হাতে পেয়ে রিহি বলে ওঠল “আর একটু হলে দুই মিনিট পার হয়ে যেত”

—এত তাড়াতাড়ি গোলাপ আনা খুব কঠিন একটা ব্যাপার।
রিহিঃকিন্তু এখন আরেকটা পরিক্ষা দিতে হবে।এর থেকেও কঠিন।
—কি সেটা।
রিহিঃতুমি হয়তো জান না আমি সাদা গোলাপ পছন্দ করি না।আমার লাল গোলাপ পছন্দ। দুই মিনিটের মধ্যে তুমি আমাকে লাল গোলাপ এনে দিবে।

রাশেদ চারপাশে থাকালো কয়েক জন দূরে গোলাপ নিয়ে দাড়িয়ে আছে কিন্তু কারো সাদা কারো হলুদ।কারো হাতেই লাল গোলাপ নেই।রাশেদ বুঝতে পারল রিহি এটা জেনে বুঝে করেছে যাতে সে হার মেনে যায়।রাশেদ রিহিকে বিশ মিনিট সময় দিতে বলল যাতে কাউকে বলে গোলাপ আনাতে পারে।কিন্তু রিহি সে সময় টা তাকে দিল না।আরো বলল যে সময় গুলো কথা বলে শেষ করছে সেগুলোও ঐ দুই মিনিট থেকে কেটে নেবে।

রাশেদ ঐ সময় কোনো উপায় খুঁজে পাই নি।এই দিকে সময় শেষ মাত্র আর ত্রিশ সেকেন্ড মতো আছে। রাশেদ কোনো উপায় না পেয়ে সেখানে থাকা ঝালমুড়ি ওয়ালার কাছে থাকা চুরিটা নিয়ে নিজের হাতের তালুতে চালিয়ে দিল।সাথে সাথে রক্ত বের হতে লাগল।রাশেদ রিহির হাত থেকে সাদা গোলাপ ফুল টা নিয়ে রাশেদের হাত থেকে পড়া রক্ত গুলো সে গোলাপের উপর ছিটতে লাগল।

ঝালমুড়ি ওয়ালা সহ সেখানে থাকা যারা রাশেদের এই পাগলামি দেখেছে তারা সবাই অবাক।কারণ কলেজে বেপরোয়া কেউ থাকলে সেটা এক মাত্র রাশেদ।আর সে রাশেদ আজ একটা মেয়ের জন্য হাত কেটে সাদা গেলাপ লাল করলো।সে সময় রাশেদের এই পাগলামি দেখে রিহিও অবাক হয়েছিল।

রবি আর কিছু না বলে অহনা আর ইশিতার দিকে তাকালো। দেখলো তারা দুই জনই প্রায় কেঁদে দিছে।চোখের কোনে পানি জমে গেছে।রবি ওদেরকে বললো”আরে তোমরা কেন কাঁদছ”

ইশিতাঃরবি তোমার জন্য এত কিছু করল?
রবিঃসে আমার কলিজার বন্ধু। আমার জন্য শুরু হাত কাটতে নয় প্রাণ টাও দিতে পারে।

অহনাঃতারপর কি হলো বল না?
এবার রবি বলা শুরু করল..

রবিঃরাশেদ হাত কেটে রক্ত দিয়ে সাদা গোলাপ ফুল টা লাল করে রিহির হাতে দিয়ে বলল “পরের বার কি পরীক্ষা দিতে হবে তা আগে থেকে একটু বলে দিও,প্রস্তুতি নিতে সুবিধা হবে”

এই বলে রাশেদ চলে গেল নিজের বাসায়।এই দিকে ঘটনাটা রিহির মাথায় বার বার ঘুরতে থাকে।রিহির ঘটনাটি ভেবে খেতে পারে না ঘুমাতে পারে না।প্রায় তিন দিন রিহি রাশেদকে ফোন করে নি।আর রাশেদও রিহিকে ফোন করে নি।রাশেদ কলেজে আসলেও রিহি কলেজে আসে নি।রিহি রাশেদের দেওয়া সেই রক্ত মাখা গোলাপ টি হাতে নিয়ে বার বার চিন্তা করে রাশেদ তাঁকে সত্যি ভালোবাসে।এবার আর কোনো পরিক্ষা রাশেদের থেকে নেবে না।

প্রায় তিন দিন পর রিহি রাশেদকে ফোন দিয়ে পার্কে দেখা করতে বলে সাথে লাল গোলাপ আনতে বলে।রাশেদ বুঝতে পারল রিহি তার মায়ায় পড়ে গেছে হয়তো ভালোবেসে ফেলছে।রিহির কথা মতো রাশেদ চারটা লাল গোলাপ নিয়ে পার্কে চলে যায় রিহির সাথে দেখা করতে।পার্কে গিয়ে দেখে সেখানে রিহি আগে থেকে বসা। রাশেদ ফুল গুলো নিয়ে রিহির কাছে যায় আর বলে….

—বল আজকে আর কি পরীক্ষা দিতে হবে?
রিহিঃআজকে কিছু করতে হবে না।
—তাহলে ডাকলে কেন?
রিহিঃআজ তোমাকে কিছু বলতে ডাকছি।
—ওকে বল?(না বুঝার ভান ধরে)
রিহিঃআসলে এই কয় দিন তোমাকে অনেক কষ্ট দিয়ে ফেলছি।এসবের জন্য সরি।আর এখন তোমায় ভালোবেসে ফেলছি। সত্যি ভালোবেসে ফেলছি। এখানে কোনো ছলনা নেই।
—বিয়ে করবে তো আমায়?
রিহিঃতুমি বললে এক্ষুনি বাবা কে তোমার কথা জানাব।আর আমি জানি বাবা আমার কথা ফেলবে না।
—তাহলে এত দিনে ভালোবেসে ফেলছো?
রিহিঃহুম।ভালোবাসবে তো আমায়?

—(রাশেদ কিছু না বলে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে)

রিহিঃএখন তোমার হাতের ঐ চারটা গোলাপ দিয়ে আমায় প্রপোজ কর।

এবার রাশেদ মাথা তুলে তাকালো রিহির দিকে।রাশেদ রিহির চোখে চোখ রেখে বলা শুরু করল….
—তুমি কি ভাবছ আমি তোমাকে আদৌ ভালোবাসছি?
রিহিঃতাহলে এত দিন এসব কি ছিল?
—তোমার মতো জঘন্য মেয়েকে ভালোবাসতে যাব আমি এটা তুমি কিভাবে ভাবলে?
রিহিঃতোমার হাত কাটা,বৃষ্টির সময় ভিজে আমাকে দেখানো এসব কি ছিল তাহলে?
—এসব কেবল তোমার মনে আমার জন্য ভালোবাসা তৈরির জন্য ছিল।মনে আছে তুমি কত ছেলেকে কষ্ট দিছ?সাবিত,জিসান তারপর আমার বন্ধু রবিকে এর পর আরো কত জনকে কষ্ট দিছ?
সবার কথা আমি জানি না।হয়তো সবাই তোমাকে সত্যিকার অর্থে ভালোবেসে গেছে।কিন্তু রবির কথা আমি জোর দিয়ে বলতে পারি।সে তোমাকে সত্যিকার অর্থে ভালোবেসেছে।তুমি তাঁকেও তোমার ছলনায় ফেলে দিলে।তুমি সত্যিকারের ভালোবাসার মানে বুঝ না।কেউ যখন সত্যিকার অর্থে ভালোবাসে আর প্রিয় মানুষটাকে না পাই তখন কি পরিমাণ কষ্ট হয় তা আমি রবিকে দেখে বুঝেছি।যে ছেলে সারাদিন পড়াশোনা নিয়ে থাকতো তুমি তাঁকে তোমার মিথ্যা প্রেমের জালে ফাঁসিয়েছ?
তুমি বলতে পার রবি তোমাকে প্রপোজ করছে কিন্তু তাঁর প্রপোজ করার পেছনেও তুমি ছিলে।তোমার ফ্রেন্ডদের নিয়ে তার সামনে গিয়ে ভালো সাজার চেষ্টা করতে।সব সময় চেয়েছ রবি যেন তোমায় প্রপোজ করে।সারাক্ষণ তার চারপাশে ছিলে যদিও সে বুঝতে পারে নি তুমি তাঁকে তোমার জালে ফেলতে চাচ্ছ কিন্তু আমি সবটা খেয়াল করেছি।আমি তাঁকে নিষেধও করছিলাম তুমি প্লে গার্ল।কিন্তু সে আমার কথা শুনে নি।

রিহিঃমুখ সামলে কথা বল রাশেদ।

—মুখ সামলে কথা বলতেছি।আমার কথা শেষ করার আগে মাঝখানে কথা বললে আরো খারাপ ভাবে কথা বলবো।
রবি তোমাকে সবটা দিয়ে ভালোবাসতো।কিন্তু তুমি তাঁকে একটুও ভালোবাস নি।শুধু তাঁর থেকে নোট নেওয়ার জন্য তাঁকে তোমার প্রেমে ফেলছ।তুমি চাইলে হয়তো তাঁর সাথে সারাজীবন থেকে যেতে পারতে কিন্তু তোমার আবার একটা বড় রোগ আছে বড় লোকের ছেলেদের পটিয়ে তাদের টাকায় শপিং করা।যেটা রবির সাথে কখনো করতে পার নি।আর তোমার নতুদের সাথে ঘষাঘষি করতে খুব ভালো লাগে…..

রিহিঃরাশেদ মুখ সামলে কথা বলো আমি……আর কিছু বলতে দেয় নি তার আগেই রিহির গালে ঠাসসসস করে একটা বসিয়ে দিল।রিহি রাশেদ এমন ভয়ানক অবস্থা দেখে ভয় পেয়ে গেল।রাশেদ চারপাশে তাকিয়ে দেখে অনেক মানুষ তাদের দিকে তাকিয়ে আছে।

রাশেদ আবারো বলা শুরু করল…..
—নতুন কোনো বড় লোকের ছেলে পেলেই আগেরটার সাথে ব্রেকআপ করা তোমার ফোনে চার্জ দেওয়ার মতো।কিংবা নতুন কলম কেনার মতো।
তুমি যাদের কষ্ট দিছ তারা তোমার থেকে কষ্ট পেয়ে কি করছে তা জানি না।কিন্তু আমার বন্ধুকে দেখে আমি বুঝেছি কষ্ট কি।তুমি জান না রবি শুধু আমার বন্ধু নই ভাইও হয়।তার জন্য তোমাকে চড় মারা নই শুধু তোমাকে খুনও করতে পারতাম।কিন্তু সেটা আমার বোকামি হতো।তুমি কষ্ট কি তা বুঝতে না।সত্যিকার অর্থে তোমাকে ভালোবাসার পর যখন সে মানুষ টি তোমার ভালোবাসার বদলে অবহেলা ছলনা পাবে তখন কতটা কষ্ট হয় তা আজ থেকে তুমি বুঝবে।আমি তোমাকে ভালোবাসি বলতে আসি নি।তোমাকে বুঝাতে এসেছি ভালোবাসার পরে সেই ভালোবাসার মানুষকে না পেলে কতটা কষ্ট হয় তা বুঝাতে।

আজ এই মুহুর্ত থেকে তুমি বুঝতে পারবে কতটা ভালোবাসলে একটা ছেলে মৃত্যুর মুখ পর্যন্ত যেতে পারে।আমার জানামতে কম করে হলেও দশ জনকে তুমি তোমার ছলনায় ফেলছ পারলে তাদের সরি বলে এসো।

রিহিঃরাশেদ আমার কথা শুন….কথা বলতেই আরেকটা চড় দিয়ে দিল।রাশেদ আবারে বলতে শুরু করল…..
—আমি চাইলে তোমাকে এই চড় গুলো অনেক আগে মারতে পারতাম কিন্তু তাতে তোমার শিক্ষা হতো না।তাই আজ মেরে শিক্ষা দিলাম। কি যেন বলেছিলে..ওহ হ্যাঁ হাটু গেড়ে বসে তোমাকে প্রপোজ করতে তাই না।তোমার মতো মেয়েকো প্রপোজ নয় চড় মানায়।আজ থেকে তুমি তিলে তিলে নিজের ভেতরে জ্বলবে ভালোবাসা না পাওয়ার কষ্টে।আর তুমি যে ছেলে গুলোকে আঘাত করছ তাদের কথা মনে করে।আজ এখন থেকে তোমার কষ্ট পাওয়া শুরু….

এই বলে রাশেদের হাতে থাকা চারটা ফুল রিহির দিকে ছুঁড়ে মারলো।চারপাশের থাকা সবাই এই অবস্থা দেখে এক সাথে হাত তালি দিয়ে ওঠল।রিহি সেখানেই কেঁদে কেঁদে বসে পড়ল।রাশেদ এ কাজ শেষ করে ঠিক আমার কাছেও চলে আসলো। এসেই আমাকে রিহির সাথে ঘটে যাওয়া সব ঘটনা বলব।

অবশ্য এসব শুনে আমার মনটাও খারাপ হয়ে গেছিল।কিন্তু বেইমান এর কথা মনে করে আবারো নিজের মধ্যে একটা প্রশান্তি বয়ে গেল।

এইটুকু বলে রবি থেমে গেল। হয়তো এখানেই শেষ রিহির গল্প। অহনা আবারো রবিকে বলে উঠলো তারপর কি আর কিছু হয়েছিল….

#To_be_continue…….
#RK90

#গল্পটা_কেমন_হল_জানাবেন।
#ভালো_লাগলে_শেয়ার_করবেন।
#সবাই_নিয়মিত_নামাজ_আদায়_করবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here